রাজনীতি
সর্বশেষ ডেস্ক
(১ মাস আগে) ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০:২২ অপরাহ্ন
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন নেতা সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র গঠনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আওয়ামী লীগের অবদান অবিস্মরণীয়। এমন একটি ঐতিহাসিক ও বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে রেখে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা জনগণের একটি বড় অংশের মতামত উপেক্ষা করার শামিল এবং এতে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গণতন্ত্র কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অস্থায়ী সরকারের সম্পত্তি নয়; এটি জনগণের অধিকার ও কণ্ঠস্বরের প্রতিফলন। কিন্তু বর্তমান ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ড ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গণতন্ত্রকে জনগণের অধিকার হিসেবে নয়, বরং নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবস্থায় পরিণত করার চেষ্টা চলছে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুরু থেকেই এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করে এবং তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে যে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে, তা প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে নয়; বরং এটি একটি পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিটি পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। এমন একটি দলকে কার্যত নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখলে জনগণের একটি বৃহৎ অংশের রাজনৈতিক মতামত অস্বীকার করা হয়। গণতন্ত্র তখনই অর্থবহ, যখন সব রাজনৈতিক মত ও পথের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক হয়রানি, প্রশাসনিক চাপ ও একতরফা সিদ্ধান্তের অভিযোগ জনগণের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচন জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে—এমন বিশ্বাস তৈরি করা কঠিন।
তার মতে, সমান সুযোগ ও সমান অধিকার গণতন্ত্রের মূল শর্ত। কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে যদি নির্বাচনের নিয়ম ও পরিবেশ নিজেদের অনুকূলে পরিচালিত হয়, তবে গণতান্ত্রিক চর্চা দুর্বল হয় এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি ঝুঁকির মুখে পড়ে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়—যেখানে সব রাজনৈতিক দল ভয়-ভীতি ও চাপমুক্ত পরিবেশে অংশ নিতে পারবে এবং ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, প্রহসনের নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো নির্বাচন গণতন্ত্র নয়, তা কেবল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও একতরফা নির্বাচনের পথ পরিহার করে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
