"বঙ্গবন্ধুকে মুক্তিযোদ্ধা নয় বললে, বাংলাদেশ কীভাবে মুক্ত?"

বঙ্গবন্ধুর সনদ বাতিল: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক জঘন্য কলঙ্ক

sorbosesh24.com
মতামত

সাখাওয়াত হোসেন (মার্কিন বাঙালি প্রবাসী ব্যবসায়ী)

(৭ মাস আগে) ৪ জুন ২০২৫, বুধবার, ১:০৮ অপরাহ্ন

বঙ্গবন্ধুর সনদ বাতিল: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক জঘন্য কলঙ্ক
"বঙ্গবন্ধুকে মুক্তিযোদ্ধা নয় বললে, বাংলাদেশ কীভাবে মুক্ত?"
"সনদ নয়, চেতনাই প্রমাণ—কিন্তু রাষ্ট্র আজ সেই চেতনাকেই অস্বীকার করে!"

লিখেছেন: সাখাওয়াত হোসেন (মার্কিন বাঙালি  প্রবাসী ব্যবসায়ী)

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৫ সাল এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী প্রায় ৪০০ জন জনপ্রতিনিধির মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে একটি অবৈধ, অগণতান্ত্রিক ও ইতিহাসবিরোধী ইউনুস সরকার যা করেছে, তা শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি মুক্তিযুদ্ধের মূলে আঘাত, বাংলাদেশের অস্তিত্বের ভিত্তির ওপর চালানো হয়েছে এক নিষ্ঠুর ছুরি।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের শত শত প্রার্থী। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এই গণরায়কে অস্বীকার করেছিল, আর সেই থেকেই শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের পথ। এই নেতারাই ছিলেন আমাদের স্বাধীনতার প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও সংগঠক।
আজ সেই নেতাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া মানে—বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বৈধতা অস্বীকার করা।
চেতনাবিরোধী সরকার: ইউনুসের মুখোশে পাকিস্তানি আদর্শ
আজকের তথাকথিত ‘ইউনুস সরকার’ নিজেদেরকে প্রযুক্তিবান, আধুনিক ও নিরপেক্ষ বলে দাবি করলেও, বাস্তবে তারা এক ভয়ংকর পাকিস্তানি আদর্শের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

তারা চায়:
* ইতিহাস মুছে ফেলা,
* মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করা,
* জাতির পিতাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা,
* এবং জনগণের রায় ও প্রতিনিধিত্বের মূল্য বাতিল করা।
এটা নিছক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়—এটা এক আদর্শিক যুদ্ধ, যেখানে এক পক্ষে আছে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আত্মত্যাগ; অন্য পক্ষে আছে জঙ্গিবাদ, স্বৈরতন্ত্র ও বিকৃত ইতিহাস।
‘সনদ নয়, চেতনাই প্রমাণ’—তবুও সেই চেতনাই আজ নিষিদ্ধ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সনদ লাগে না, তিনি ছিলেন এই জাতির অবিসংবাদিত নেতা, যার ডাকেই স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের প্রমাণ হলো পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়া, ৯ মাসের গৃহবন্দিত্ব, আর তাঁর অনুপস্থিতিতেও কোটি মানুষের রক্ত দিয়ে গড়া এক বিজয়।
তবে আজ রাষ্ট্র যখন তাঁর নাম থেকে "মুক্তিযোদ্ধা" শব্দটি মুছে দিতে চায়, তখন স্পষ্ট হয়—এই সরকার আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে না। বরং তারা ভয় পায় সেই চেতনাকে।

জঙ্গি ও স্বৈরাচারী শাসনের চূড়ান্ত রূপ:
ইউনুস সরকার আসলে একটি অবৈধ, জঙ্গিবাদপুষ্ট, বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা শাসনব্যবস্থা, যার কোনো গণভিত্তি নেই। এই চক্র ১৯৭১-এর পরাজিত শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের লক্ষ্য:
* মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধ্বংস,
* ইতিহাস বিকৃতি,
* পাকিস্তানি শাসনের সংস্করণ ফিরিয়ে আনা,
* এবং জনগণকে রাজনীতিহীন, ইতিহাসবিচ্ছিন্ন এক প্রজন্মে পরিণত করা।

উপসংহার: বাংলাদেশ পাকিস্তান হবে না, কখনোই না

বাংলাদেশ ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত। এখানে কোনো ইউনুস, কোনো স্বৈরাচার, কোনো ইতিহাসবিরোধী চক্রান্ত টিকবে না। এই জাতি জানে, কারা দেশপ্রেমিক, কারা ষড়যন্ত্রকারী। বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করা মানেই বাংলাদেশকে অস্বীকার করা—এত সহজে এই মাটি আত্মসমর্পণ করবে না।
আমরা শপথ করি—যারা বঙ্গবন্ধুর সনদ বাতিল করে, তারা যতই শক্তিশালী হোক, তারা বাংলাদেশের পক্ষে নয়। তারা আমাদের শত্রু।
বাংলাদেশ থাকবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারে, আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গঠিত শক্তিতে।

আমরা গভীর ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও অপমানবোধের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭০ সালের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের ঘৃণ্য সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই।

এই সিদ্ধান্ত কেবল একজন ব্যক্তি বা কয়েকশ’ নেতার সম্মানহানিই নয়—এটি পুরো মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, এবং বাংলাদেশের জন্ম-চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।

যারা বঙ্গবন্ধুর মতো এক মহাকাব্যিক নেতৃত্বকে 'অযোগ্য' বলার সাহস দেখায়, তারা এই দেশের জন্মই মানে না। এদের লক্ষ্য একটাই—বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়া, ইতিহাস মুছে ফেলা, আর জনগণকে নেতৃত্বহীন করে তোলা।

আমরা পরিষ্কারভাবে বলি:
* এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
* বাংলাদেশ থাকবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে।
* আমরা এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানাই এবং ততক্ষণ পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে সত্যের পক্ষে, ইতিহাসের পক্ষে, চেতনার পক্ষে।

 

সাখাওয়াত হোসেন 
মার্কিন বাঙালি  প্রবাসী ব্যবসায়ী।
প্রাথমিক সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। 
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।